চরিত্রায়ণঃ ক্যালিগুলা কিংবা আমি, আমি কিংবা ক্যালিগুলা

বাবার কাছ থেকে শুনেছি আমার জন্মেরও অনেক আগে একবার এক যাত্রা দল এল আমাদের গ্রামে। চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রাম। মাঠে তাঁবু গেঁড়ে চলবে প্রদর্শনী। যাত্রার অধিকারী এসে দ্বারস্থ হলেন আমার দাদুর, গ্রামের মান্যগণ্য সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যাক্তি হিসেবে উনিই যেন বসেন টিকেট ঘরে। রাজি হলেন। শুনে অবশ্য আমি নিজেই অবাক হয়েছিলাম! আমার দাদু!? এই রাশভারী মানুষটা রাজি হলেন! যাই হোক বসলেন। যাত্রা প্রদর্শনীও হলো। কিন্তু সমস্যাটা হলো পরে। রব উঠলো সফেদ দাঁড়ির পাঞ্জাবি টুপি পড়া সর্বজন মান্য শিক্ষিত স্কুলমাস্টার যাত্রাপালার টিকেটঘরে বসলেন! 

Read More

অনিশ্চিত অস্তিত্বের এক অন্তহীন অপেক্ষা…এবং ফেইম প্রযোজনা ‘প্রতীক্ষা অন্তহীন…’

আমার নব্বই উর্দ্ধ দিদিমা প্রায় স্মৃতিহীন। কথা প্রায় বলতে পারেননা, যা বলেন তার অর্থ বোঝা যায় না। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে ‘ডিমেনশিয়া’। যখন উনার কোন প্রয়োজন পরে নানান শব্দ বাক্য বলে যে কথাটা প্রায় স্পষ্ট বলতে পারেন তা হল — ‘আঁরে এক্কেনা মুক্ত কর’, ‘আঁরে এক্কেনা মুক্ত কর।’ আমাকে মুক্ত কর, আমাকে মুক্ত কর। দিদিমার আপাত এই বেঁচে থাকা আসলে এক অর্থে বন্দিত্বই। নির্জীব, নিরর্থক কিন্তু টেনে চলা এক জীবন। যিনি অপেক্ষায় আছেন মুক্তির কিন্তু জানেন না কবে তার মুক্তি? কে দেবেন তাঁকে মুক্তি? প্রতিদিন প্রতি মুহূর্ত তাঁর এই অপেক্ষা অনিঃশ্বেষ; মেয়ে, নাতবউ’র শত চেষ্টায়ও।

Read More